নরসিংদীতে অভিবাসন বিষয়ক “ফলো-আপ মিটিং” অনুষ্ঠিত

০৯ জুলাই ২০১৯, ০৭:২২ পিএম | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ১০:৩৭ পিএম


নরসিংদীতে অভিবাসন বিষয়ক “ফলো-আপ মিটিং” অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
“বিদেশ যাব বৈধ পথে, চাকরি করব নিরাপদে”"এই শ্লোগানকে সামনে রেখে নরসিংদীতে অভিবাসন বিষয়ক সরকারী প্রতিষ্ঠান সমূহের সেবা প্রদান সংক্রান্ত স্থানীয় পর্যায়ে এক “ফলো-আপ মিটিং” অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৮ জুলাই) নরসিংদী সদর উপজেলা মোড়ে অবস্থিত 'বেলিন্ডা রেস্টুরেন্ট' এ মিটিং অনুষ্ঠিত হয়।


বেসরকারি সংস্থা ওয়্যারবী ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ ফলো-আপ সভায় সভাপতিত্ব করেন নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ.এইচ.এম. জামেরী হাসান। সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সফর আলী ভূঞার পে সভায় প্রধান ও বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ কফিল উদ্দিন ভূঞা ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোসাঃ সাহিদা বেগম।
সভায় অভিবাসীদের বিষয়ে মূল আলোাচক ছিলেন, বাংলাদেশ অভিবাসী অধিকার ফোরামের চেয়ারম্যান মোঃ নাজমুল আহসান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, ওয়্যারবী ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন নরসিংদী শাখা নরসিংদী শাখার ইনচার্জ রুনা পারভীন।


সভায় মূল আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে ছিল- প্রথমে লাভ-তির হিসাব করে বিদেশ গমনের সিদ্ধান্ত নেয়া; বিদেশ যাওয়ার পূর্বে দু’টি ব্যাংক একাউন্ট খোলা; নিজের পাসপোর্ট নিজে করা; অর্থ পরিশোধের সময় লিখিত রশিদ গ্রহণ করা; ইউনিয়ন তথ্য সেবা কেন্দ্র/জেলা জনশক্তি অফিসে অনলাইনে নাম নিবন্ধন করা; সরকার অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্টের মাধ্যমে বিদেশ যাওয়া; বিদেশ যাওয়ার আগে ওই দেশের ভাষা জেনে এবং কাজের প্রশিণ নিয়ে বিদেশ যাওয়াসহ ইত্যাদি বিষয়াদি।
অভিবাসী বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করে সভায় বক্তব্য রাখেন, নরসিংদী কারিগরী প্রশিণ কেন্দ্রের (টিডিসি) অধ্য মোঃ মাহতাব উদ্দিন, জেলা তথ্য অফিসার সানজিদা আমীন এবং জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ শহিদুল আলম।


এসময় নরসিংদী কারিগরী প্রশিণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ মাহতাব উদ্দিন বলেন, এখন প্রশিণ ছাড়া কেউ বিদেশ যেতে পারবে না, গেলেও কোন সুবিধা পাবেন না।
জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল আলম বলেন, প্রায় দেড় কোটি লোক বিদেশ থাকেন। ১৬ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অভিবাসীদের মাধ্যমে আামাদের দেশে আসছে। অথচ শ্রীলংকার অভিবাসী কম কিন্তু বৈদেশিক মুদ্রা আমাদের চাইতে তুলনামূলকভাবে বেশী। এর কারণ হলো তারা প্রশিণ নিয়ে বৈধ পথে বিদেশ যায়।


তিনি আরও জানান, আমাদের কোন লোক বিদেশ গিয়ে (বৈধ পথে) মারা গেলে সরকার তিন ল টাকা অনুদান প্রদান করে থাকে, লাশ দাফনের খরচ দিয়ে থাকে। দেশে ফিরে ৬ মাসের মধ্যে মারা গেলেও এই টাকা প্রদান করা হয়। নির্ধারিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে বৈধ পথে প্রশিণ নিয়ে বিদেশ গেলে দেশ যেমন লাভবান হবেন, তেমনি যিনি যাবেন তিনিও লাভবান হবেন। বিষয়গুলো ব্যাপকভাবে প্রচার করতে হবে দেশের প্রতিটি এলাকায়।


সভাপতির ভাষণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এইচ.এম. জামেরী হাসান বলেন, জেলার সকল এলাকায় জিও, এনজিও সকলকে প্রচার কাজে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে হবে। তাহলেই সরকারের উদ্দেশ্য সফল হবে। লাভবান হবেন অভিবাসীরাও।
উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করে অভিবাসী বিষয়ক বিভিন্ন সম্স্যা তুলে ধরেন এবং সমাধানের বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করেন, আজকের খোঁজখবর পত্রিকার সম্পাদক মনজিল এ মিল্লাত, সাংবাদিক হলধর দাস, সোহেল এস হোসেন, এমডিএস এর নির্বাহী পরিচালক ফাহিমা খানম, অভিবাসী ফোরামের জেলা সভাপতি মোঃ জসীম উদ্দিন প্রমুখ।


বিভাগ : জীবনযাপন


Regent