মনোহরদীতে খামারের বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদন

১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০২:১৩ এএম | আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০১৯, ০৬:৪৬ পিএম


মনোহরদীতে খামারের বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদন
Bio_Gas_Monohordi

আসাদুজ্জামান রিপন

Bio_Gas_Monohordi


নরসিংদীর মনোহরদীতে গবাদি পশু ও মুরগীর খামারের বর্জ্য থেকে তৈরি হচ্ছে বায়োগ্যাস। স্থাপন করা দুই শতাধিক বায়োগ্যাস প্লান্ট থেকে উৎপাদিত গ্যাস বিকল্প জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে তিন শতাধিক বাসাবাড়ীতে।

পরিবেশ বান্ধব ও কম খরচে লাভজনক হওয়ায় দিন দিন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে এসব বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট। জ্বালানী সাশ্রয়সহ বায়োগ্যাস প্লান্টে ব্যবহৃত উচ্ছিষ্ট অংশ ব্যবহার হচ্ছে পুকুরের মাছের খাবার ও কৃষি জমির জৈবসার হিসেবে।

Bio_Gas_Monohordi


সরেজমিন গিয়ে উপজেলা যুব উন্নয়ন কার্যালয় ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য গৃহপালিত গবাদি পশু, কোয়েল পাখি ও মুরগীর খামার।

এসব খামারের বর্জ্যরে দুর্গন্ধে পরিবেশ দুষিত হওয়ায় বিপাকে ছিলেন এলাকাবাসী ও খামারীরা। কিন্তু এখন আর নেই পরিবেশগত এসব সমস্যা। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে উপজেলার দুই শতাধিক বাড়ী ও খামারে তৈরি করা হয়েছে বায়োগ্যাস প্লান্ট। এসব প্লান্টের মাধ্যমে গবাদি পশু ও মুরগীর খামারের বর্জ্য থেকেই তৈরি হচ্ছে বায়োগ্যাস।

Bio_Gas_Monohordi

আর এই বায়োগ্যাস বিকল্প জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে তিনশতাধিক বাসা বাড়ীর রান্নার কাজে। এতে একদিকে যেমন রক্ষা হচ্ছে পরিবেশ, অন্যদিকে সাশ্রয়ী হয়েছে জ্বালানী খরচ।

শুধু খামারীদের নিজের বাসাবাড়ী নয়, মাসিক ৮শত টাকায় গ্রাহকদের বাড়ীতে গ্যাসের সংযোগ দিয়ে লাভবান হচ্ছেন খামারীরা। বায়োগ্যাস প্লান্টের উচ্ছিষ্ট বর্জ্য ব্যবহার হচ্ছে মাছের খাবার ও কৃষি ফসলের জৈবসার হিসেবে। কম খরচে লাভজনক হওয়ায় উপজেলাজুড়ে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে এসব বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট।

Bio_Gas_Monohordi


মনোহরদী উপজেলার কুড়িপাইকা গ্রামের মো: খোরশেদ আলম বলেন, আমার খামারের আড়াই হাজার লেয়ার মুরগীর বিষ্ঠা ফেলে দিতে হতো। এতে দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দুষিত হওয়ায় সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছিল। পরে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে একটি বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করি।

এখন মুরগীর বিষ্ঠা সরাসরি বায়োগ্যাস প্লান্টে চলে যাওয়ায় পরিবেশ দুষিত হয় না। বায়োগ্যাস প্লান্ট থেকে উৎপাদিত গ্যাস দিয়ে নিজের বাসার রান্নার কাজ চলছে। পাশাপাশি ৫ জন গ্রাহককে মাসিক ৮শত টাকায় গ্যাসের সংযোগ প্রদান করেছি।

Bio_Gas_Monohordi


হাররদিয়া গ্রামের মাসুদ মিয়া বলেন, বায়োগ্যাস প্লান্টের মাধ্যমে আমার বাড়ীতে পালিত ৪টি গরুর গোবর দিয়ে গ্যাস তৈরি করে বাসার রান্নার কাজ চালাচ্ছি এতে লাকরি বা সিল্ডিন্ডার গ্যাস খরচ লাগছে না।

বায়োগ্যাস প্লান্ট থেকে উচ্ছিষ্ট বর্জ্য জমিতে জৈবসার হিসেবে ব্যবহার করছি। ভবিষ্যতে বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করে আশেপাশের বাসাবাড়ীতে গ্যাসের সংযোগ প্রদানের ইচ্ছে আছে।


কাচিকাটা গ্রামের খামারী মিলন মিয়া বলেন, কম খরচে নিজের খামারের বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস প্লান্টের মাধ্যমে গ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদন করার চেয়ে আনন্দের আর কী আছে। বায়োগ্যাসের মাধ্যমে মুরগীর খামারে বাচ্চা তাপ দেয়া, বাসার রান্নার কাজে ব্যবহার, জৈবসার উৎপাদন ও জেনারেটরের মাধ্যমে বাতি জ্বালাতে পারছি। এতে খরচ ভোগান্তি দুটোই কমেছে।

Bio_Gas_Monohordi


মনোহরদী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো: মাহবুব আলম বলেন, জৈবসার উৎপাদন ও বিকল্প জ্বালানী হিসেবে গ্যাস ও বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়াতে খামারীদের বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

মাত্র ২৫ হাজার থেকে ২৬ হাজার টাকায় স্থাপন করা যায় এসব বায়োগ্যাস প্লান্ট। সরকারিভাবে দেয়া হয় কারিগরি ও ঋণ সহযোগিতা। অনেকে ব্যক্তি উদ্যোগে স্থাপন করছেন বায়োগ্যাস প্লান্ট।