নরসিংদীর ইউএমসি জুটমিলে তৃতীয় দিনেও আমরণ অনশন

৩১ ডিসেম্বর ২০১৯, ০২:৩৪ পিএম | আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২০, ০৮:৪২ এএম


নরসিংদীর ইউএমসি জুটমিলে তৃতীয় দিনেও আমরণ অনশন

নিজস্ব প্রতিবেদক:
মজুুরি কমিশন বাস্তবায়ন, বকেয়া মজুরী প্রদানসহ ১১ দফা দাবিতে তৃতীয় দিনেও আমরণ অনশন অব্যাহত রেখেছে নরসিংদীর ইউএমসি জুটমিলের শ্রমিকরা। অনশনে অংশ নিয়ে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে গত তিনদিনে তিনজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল শ্রমিক ইউনিয়ন সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে দ্বিতীয় দফায় রোববার থেকে এই অনশন কর্মসূচী পালন করছে শ্রমিকরা।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, তীব্র শীত উপেক্ষা করে গত রোববার থেকে কাঁথা বালিশ নিয়ে অনশনস্থলে অবস্থান করছেন জুটমিলটির শ্রমিকরা। নামাজের বিরতি ছাড়া দিনরাত মিলের সামনের চটের (বস্তা) ওপর বসে শুইয়ে ও ঘুমিয়ে দিন পার করছেন শ্রমিকরা। শ্রমিকদের অনেকে বয়স্ক হওয়ায় অনশন করে দুর্বল হয়ে পড়ছেন। অনশনস্থল থেকে বিজেএমসি ও সংশ্লিষ্টদের সমালোচনা করাসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি সরকারের সদয় হওয়ার আহবান জানান শ্রমিক নেতারা। এছাড়া শ্রমিকলীগসহ শ্রমিক নেতৃবৃন্দ তাদের ন্যায্য মজুরি কমিশন বাস্তবায়নের নামে বারবার আশ^াস দিয়ে সময়ক্ষেপনের অভিযোগ তুলে বক্তব্য দেন।

ইউএমসি জুটমিলের সিবিএ সভাপতি মো: সফিকুল ইসলাম বলেন, দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করার পরও শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মানতে কর্তৃপক্ষের কষ্ট হয়। অথচ কর্মকর্তারা লুটপাট করে জুটমিলগুলোকে লোকসানে ফেলছে। শ্রমিকদের কারণে কোন জুটমিল লোকসানে পড়ে না।
তিনি বলেন, মজুরি কমিশনসহ ১১ দফা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত মিলের উৎপাদন বন্ধ রাখাসহ আমরণ অনশন চলবে। এতে শ্রমিকরা মৃত্যুবরণও করতেও প্রস্তুত। এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, কাজ করে না খেয়ে মরার চেয়ে অনশন করে মরতে আমরা প্রস্তুত। শ্রমিকদের এই ন্যায্য দাবি মেনে নিতে যদি আবারও আলোচনার প্রয়োজন পড়ে তাহলে অনশন চলাকালীনই হবে। আলোচনার নামে আর বাহানা করতে দেয়া হবে না।

এর আগে দাবি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল শ্রমিক সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে ১০ ডিসেম্বর থেকে শুরু করা আমরণ অনশন ১৪ ডিসেম্বর স্থগিত করেন পাটকল শ্রমিকরা। পরে শ্রম প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাসে শ্রমিক নেতারা তিন দফায় কর্মসূচি স্থগিত করেন। দাবি পূরণে শ্রমিকরা গত ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। এরইমধ্যে সিবিএ-ননসিবিএ নেতারা শ্রমমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান, পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিজিএমসির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তিন দফায় বৈঠক করেন। কিন্তু কোনো সমাধানে আসতে না পারায় শ্রমমন্ত্রী আরো এক মাসের সময় চেয়েছেন। কিন্তু ওই এক মাস পর মজুরী কমিশন বাস্তবায়ন হবে কি না তা নিশ্চিত করেননি কেউই। আন্দোলন ছাড়া দাবি বাস্তবায়নের বিকল্প কোন পথ দেখছেন না বলে জানান পাটকল শ্রমিকরা।



এই বিভাগের আরও