জীববৈচিত্র্য গবেষণায় বিশেষ অনুদান পেলেন মনোহরদীর তরুণ বিজ্ঞানী ড. মাহমুদুল হাসান

১১ এপ্রিল ২০১৯, ০৬:৪৩ পিএম | আপডেট: ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ০১:৫০ এএম


জীববৈচিত্র্য গবেষণায় বিশেষ অনুদান পেলেন মনোহরদীর তরুণ বিজ্ঞানী ড. মাহমুদুল হাসান

নিজস্ব প্রতিবেদক :

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজ্ঞানী ও গবেষকদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ এবং গবেষণায় বিশেষ অনুদান প্রদান করেন। গত বুধবার (১০ এপ্রিল) বুধবার সকালে উক্ত অনুষ্ঠানে নরসিংদীর মনোহরদীর কৃতী সন্তান তরুন বিজ্ঞানী ড. মাহমুদুল হাসান (ফিরুজ) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ের ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরের জন্য "বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কর্মসূচি" খাত থেকে বিশেষ গবেষণার জন্য অনুদান পেয়েছেন।

তার গবেষণার বিষয় "Cryptic Biodiversity Of Fresh Water Species In Bangladesh. " ড. মাহমুদুল হাসানকে বিজ্ঞান গবেষনায় অনুদান প্রদান করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বারের সাবেক উপাচার্য ড. আ আ স ম আরেফিন সিদ্দিক প্রধানমন্ত্রী এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

তিনি বলেন- "ড. মাহমুদুল হাসান সম্পর্কে আমি যতটুকু জানি, সে একজন জ্ঞান অনুসন্ধিচ্ছু মানুষ। শুধু বিজ্ঞান নয়, সমাজ-সংস্কৃতি, ইতিহাস ইত্যাদি নিয়েও সে চিন্তা করে এটা আমি লক্ষ্য করেছি। তার মত মেধাবীরা যত বেশী শিক্ষকতা পেশায় আসবে, আমাদের নতুন প্রজন্ম তত বেশী অনুপ্রাণিত ও উপকৃত হবে। তাঁর এই প্রাপ্তি তাকে যেমন অনুপ্রাণিত করবে, তেমনি তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকদেরকেও উৎসাহিত করবে। সরকারকে ধন্যবাদ জানাই তার মত যোগ্য মানুষকে গবেষণা অনুদান প্রদান করায়। এটি তার গবেষণা আরো সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করবে। সে আরো পুরস্কার -অনুদান পেয়ে দেশে- বিদেশে সে মেধার স্বাক্ষর রাখবে এটা আমার বিশ্বাস।

 " জাপানের হিরোশিমা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটস অধ্যাপক ড. মাসায়ুকি সুমিদা বলেন -" ড. হাসান আমার অধীনে পিএইচডি করেছিল। আমি তার অধ্যাপনা ও গবেষণার উত্তরত্তোর সফলতা কামনা করি।"

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান অধ্যাপক বিভাগের অধ্যাপক ড. নিয়ামুল নাসের বলেন- "দেশে ব্যাঙ নিয়ে যে কয়েকজন কাজ করেছেন তাঁর মধ্যে ড. মাহমুদুল হাসান অন্যতম। তার গবেষণা আমাদের জীববৈচিত্র্য কে সমৃদ্ধশালী করবে বলে আমি আশাবাদী।

 "নরসিংদীর হাতিরদিয়া ছাদত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোহরাব উদ্দিন আহমেদ জানান- " ড. হাসান আমার ছাত্র। তাকে নিয়ে আমরা গর্ববোধ করি যে আমার ছাত্র একজন প্রাণী বিজ্ঞানী। তাঁর মত নম্র -ভদ্র ছাত্র আমার শিক্ষকতা জীবনে কমই দেখেছি। সে প্রতিবছর আমার স্কুলের প্রতিটি ক্লাসের মেধাবীদেরকে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করছে। প্রতিটি গ্রামে একজন করে ড. হাসান জন্ম নিলে শিক্ষার আলো আসবেই।"

 বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুদান পেয়ে উচ্ছ্বসিত ড. মাহমুদ হাসান বলেন- " আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি বাংলাদেশের ব্যাঙ, এমনকি মাছ নিয়ে ট্যাক্সনোমি এবং মলিকুলার পর্যায়ে কাজ করছি। বিশেষ করে ব্যাঙের দেহের চামড়ার নিঃসৃত রস থেকে যেসব এন্টি মাইক্রোবিয়াল পেপটাইড পাওয়া যায়, যা ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, স্ট্রোক কিংবা ট্রান্সপ্লান্ট রোগীর রক্ত সংবহন কে নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের কে নিয়ে যুগান্তকারী গবেষণা করতে চাই, যা সরাসরি ভাবে মানুষ জাতির উপকারে আসবে। এক্ষেত্রে আমার এই প্রাপ্তি আমাকে আরো বেশি অনুপ্রাণিত করবে।

 " উল্লেখ্য, ড. মাহমুদুল হাসান ফিরুজ মনোহরদী উপজেলার হাতিরদিয়া এলাকার চঙ্গভাঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। হাতিরদিয়া ছাদত আলী উচ্চ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ থেকে ফিশারিজে অনার্স -মাস্টার্স সম্পন্ন করে মনোবুকাগাকুশু বৃত্তি নিয়ে পাড়ি জমান জাপানে। হিরোশিমা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট এবং পোষ্ট ডক্টরেট ডিগ্রিধারী এই বিজ্ঞানী ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ বছর অধ্যাপনা করে, বর্তমানে দেশে অধ্যাপনার পাশাপাশি গবেষণা কাজে নিয়োজিত আছেন। তিনি বাংলাদেশের ১০৭ টি ব্যাঙ নিয়ে মলিকুলার পদ্ধতিতে ডিএনএ বারকুডিং এনালাইসিস করে ৮ টি নতুন প্রজাতির ব্যাঙ আবিষ্কারসহ ৩টির বৈজ্ঞানিক নামকরণ করেন। তারমধ্যে ১টি ব্যাঙের নামকরণ করেন শিবপুরের কৃতী সন্তান দেশের প্রতিথযশা মৎস্য বিজ্ঞানী ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়াত অধ্যাপক ড. মোখলেসুর রহমান খানের নামে ( Microhyla Mukhlesuri). এছাড়াও বর্তমানে দু- মোখ সাপ (Blind snake) এর জিন গবেষণা, স্বাদু পানির জীববৈচিত্রের রহস্যসহ বেশ কয়েকটি গবেষণা জাপান সরকার এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় চলমান আছে।

তিনি অধ্যাপনার পাশাপাশি নিজ এলাকায় সামাজিক, ধর্মীয়, শিক্ষাবিস্তারে কাজ করার জন্য সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত স্থানীয় স্কুল শিক্ষক বড় ভাইয়ের নামে গড়ে তুলেছেন "মোয়াজ্জেম মাষ্টার ছাত্রকল্যাণ সংসদ। "প্রয়াত পিতার নামে গড়ে তুলেছেন "চঙ্গভান্ডা আ: হেকিম সরকার কল্যাণ ট্রাস্ট " যা থেকে প্রতিবছর শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করছেন। স্ত্রী ডা.সাইফুন নাহার সানি কে সাথে নিয়ে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প করে আর্ত মানবতার সেবা করে যাচ্ছেন।



Regent