বেলাবতে সাব রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করলেন জনপ্রতিনিধিরা

২২ জুলাই ২০১৯, ০৭:১০ পিএম | আপডেট: ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:৫৪ পিএম


বেলাবতে সাব রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করলেন জনপ্রতিনিধিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
নরসিংদীর বেলাব উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার এম নাফিয বিন যামানের বিরুদ্ধে দলিল সম্পাদনের সময় ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। গত এক সপ্তাহে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, মহাপরিচালক নিবন্ধন অধিদপ্তর ঢাকা, নরসিংদীর জেলা প্রশাসক, বাংলাদেশ রেজিস্ট্রার সার্ভিস এসোসিয়েশন, জেলা রেজিস্ট্রারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে এমন লিখিত অভিযোগ করেছেন উপজেলার ১১ জন জনপ্রতিনিধি।


বেলাব উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানসহ ৮টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত লিখিত এ দুর্নীতির অভিযোগের সাথে একমত পোষণ করছেন স্থানীয় দলিলদাতা গ্রহিতা ও দলিল লিখকগণ।
বেলাব উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শমসের জামান ভূইয়া রিটন এ তথ্য জানিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এম নাফিয বিন যামান বেলাব উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগদানের পর হতে নজিরবিহীন ঘুষ দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। উপজেলার সাধারণ মানুষ জমি রেজিস্ট্রি করতে গেলে তিনি মোটা অংকের ঘুষ দাবি করেন। দলিলদাতা, গ্রহিতা ও দলিল লেখকরা ঘুষ দাবির প্রতিবাদ করলে সাব রেজিস্ট্রার কর্তৃক নানা হয়রানির শিকার হতে হয়।


নানা অনিয়মের প্রতিবাদ করায় সাব রেজিস্ট্রার নাফিয বিন যামান কৌশলে দলিল লিখক ও স্ট্যাম্প ভেন্ডার শফিকুল ইসলাম মানিক, রফিকুল ইসলাম লাল মিয়া, মেহেদী হাসান সজিবের লাইসেন্স বাতিল করে দেন। সাব-রেজিস্ট্রার নাফিয প্রায়ই দম্ভোক্তি করে বলেন, তার হাত অনেক লম্বা, তার পেছনে প্রভাবশালী মহল রয়েছেন।
এমন দম্ভোক্তির মাধ্যমে ভয় দেখিয়ে পুরো অফিস স্টাফ, দলিল লিখক ও ভেন্ডার সমিতিকে জিম্মি করে দলিলদাতা, গ্রহিতার কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা ঘুষ হিসেবে হাতিয়ে নিচ্ছেন সাবরেজিস্ট্রার।

গত ১১ জুলাই বাংলাদেশ দলিল লিখক ও ভেন্ডার সমিতি বেলাব উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ মুর্শিদ মিয়ার সভাপতিত্বে ভেন্ডারদের এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সাব-রেজিস্ট্রার এম নাফিয বিন যামানের বিরুদ্ধে দলিল রেজিস্ট্রি করার ক্ষেত্রে প্রতিটি দলিল হতে নির্ধারিত ফি এর অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রতিবাদ জানানোসহ ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিবাদকারী দলিল লিখক ও ভেন্ডারদের সাথে অসদাচরণ ও লাইসেন্স বাতিল করার ঘটনার প্রতিকার চেয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী দলিল গ্রহিতা ও দলিল লিখক নরসিংদী টাইমসকে জানান, উক্ত অফিসে হেবা ঘোষণা দলিল সম্পাদন করতে সরকার নির্ধারিত ফি ১৪শ টাকা। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রার দলিল গ্রহিতাদের নিকট থেকে বেআইনীভাবে ২০ থেকে ৬০ হাজার টাকা আদায় করে থাকেন।
অন্যদিকে পাওয়ার দলিল সম্পাদন করার ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন সাবরেজিস্ট্রার। উক্ত রেজিস্ট্রারের পক্ষের কিছু দলিল লিখকদের মাধ্যমে তিনি দিনের পর দিন বে-আইনিভাবে বাড়তি অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। এছাড়া অন্যান্য দলিল সম্পাদন করার ক্ষেত্রেও চাহিদা মত ঘুষ না দিলে তিনি দলিল সম্পাদন করেন না, উল্টো অসদাচরণ করে থাকেন।

ভুক্তভোগী চরউজিলাব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রফেসর আক্তারুজ্জামান নরসিংদী টাইমসকে বলেন, গত কিছুদিন আগে আমার পরিবারের ৯ টি হেবা ঘোষণা দলিল সম্পাদন করতে সাব রেজিস্ট্রার এম নাফিয বিন যামানের কাছে গেলে তিনি আমার কাছে, প্রতিটি দলিল সম্পাদনের জন্য ১৬ হাজার টাকা করে দাবী করেন। অথচ আমি যতটুকু জানি হেবা ঘোষণা দলিল করতে সরকারি হিসেবে মাত্র ১৪ শ টাকা লাগে। এছাড়াও আমার ইউনিয়নের চরউজিলাব গ্রামে একটি সরকারী কমিউনিটি ক্নিনিক স্থাপনের জন্য ৮শতাংশ জমি প্রয়োজন। উক্ত ক্লিনিকের জন্য জমি দান করবেন সিআইপি শিল্পপতি এ এইচ আসলাম সানী। আমি সাব রেজিস্ট্রারকে কমিশনের ভিত্তিতে দলিল সম্পাদনে সিআইপি আসলাম সানীর অফিস নারায়ণগঞ্জ যাবার জন্য অনুরোধ করলে তিনি সেখানে যাননি।

বেলাব উপজেলা দলিল লিখক সমিতির সভাপতি শফিকুল ইসলাম মানিক বলেন, সাব রেজিস্ট্রার এম নাফিয যামান নীট এন্ড কিন। আমার জানামতে উনি একজন ভাল মানুষ। তবে হেবা ঘোষণা দলিল করতে এত টাকা লাগার কথা নয়। আর সবচেয়ে বড় কথা ১৬ হাজার টাকা চাইলেইতো কেউ দেয় না।

বেলাব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামিমা শরমিন এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি সাব রেজিস্ট্রারের ব্যাপারে লোকমুখে নানা কথা শুনেছেন বলে জানান।

এ ব্যাপারে উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার এম নাফিয বিন যামান বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত সবগুলো অভিযোগ ভিত্তিহীন, সম্পূর্ণ মিথ্যা। চেয়ারম্যানদের কথায় কমিশনে একটি দলিল সম্পাদন করতে নারায়ণগঞ্জ না যাওয়ার কারণে মনে হয় এমন অভিযোগ করেছেন। আমিতো নারায়ণগঞ্জ যেতে না করিনি। কিন্তু উনাদের কথামত ঐদিনই না যাওয়ায় এরকমটা হয়েছে বলে মনে হয়।

হেবা ঘোষণা দলিল ১৬ হাজার টাকা নেয়ার ব্যাপারে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, এমনটা কে করেছে? যদি কেউ করে থাকে, তাহলে আমার কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হলে আমি ব্যবস্থা নেব।