মনোহরদীতে যৌতুক না পেয়ে শ্বশুরের কলাবাগান কাটলো জামাই

২৯ মে ২০২০, ০৮:০২ পিএম | আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২০, ০২:৪৫ পিএম


মনোহরদীতে যৌতুক না পেয়ে শ্বশুরের কলাবাগান কাটলো জামাই

মনোহরদী প্রতিনিধি:
নরসিংদীর মনোহরদীতে যৌতুক না পেয়ে শ্বশুর বাড়ীর দুই বিঘা জমির কলাবাগান কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে মেয়ের জামাইয়ের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) গভীর রাতে উপজেলার শুকুন্দী ইউনিয়নের দিঘাকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এতে লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত বকুল মিয়া। তিনি ওই গ্রামের মৃত নোয়াব আলীর ছেলে। অভিযুক্ত মেয়ের জামাই মাহমুদুল হক একই ইউনিয়নের চরনারান্দী গ্রামের মৃত আব্দুল হাই মাস্টারের ছেলে।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, মাহমুদুল হকের সাথে প্রায় ১৬ বছর আগে বকুল মিয়ার মেয়ে নাজমা আক্তারের বিয়ে হয়। দাম্পত্যজীবনে তাদের ১৪ বছরের এক মেয়ে এবং ৫ বছরের এক ছেলে সন্তান রয়েছে। বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই যৌতুক হিসেবে মোটর সাইকেলের জন্য নাজমার ওপর চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন তার স্বামী। এসময় দেড় লক্ষাধিক টাকা দিয়ে একটি মোটরসাইকেল কিনে দেন শ্বশুর বকুল মিয়া। কিছুদিন পর আবারো ব্যবসার কথা বলে শ্বশুরের কাছে টাকা দাবি করা হয়। কিন্তু টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় মাদক সেবন করে নাজমার উপর পাশবিক নির্যাতন চালায় মাহমুদুল।

এছাড়া বিভিন্ন সময় নাজমার বাবার বাড়িতে গিয়েও তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো। এসব নিয়ে সামাজিকভাবে একাধিক সালিশ বৈঠক হয়েছে। পরে মেয়ের সুখের চিন্তা করে দু’দফায় জামাইকে প্রায় পাঁচলাখ টাকা দেওয়া হয়। কয়েকদিন পর সে যৌতুকের জন্য আরো বেপোরোয়া হয়ে উঠে। গত জানুয়ারী মাসে আরো পাঁচলাখ টাকা যৌতুকের জন্য স্ত্রী নাজমাকে ব্যাপক মারধর করা হয়। এতে নাজমা গুরুতর আহত হলে তাকে মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মনোহরদী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করা হয়। এরপর থেকে দুই সন্তান নিয়ে বাবার বাড়ীতেই অবস্থান করে আসছে নাজমা।

পরবর্তীতে মামলা প্রত্যাহার করার জন্য শ্বশুর বাড়ীর লোকজনকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছে জামাই মাহমুদুল। এ ঘটনায় শ্বশুর বকুল মিয়া মনোহরদী থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন। এর জের ধরে গত বৃহস্পতিবার রাতে শ্বশুর বকুল মিয়াকে রাস্তায় পেয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। এ সময় বাঁধা দিতে এলে বকুলের চাচী আছিয়া (৫০) কে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে মাহমুদুল। ঐদিন রাতেই সে আবারো লোকজন নিয়ে শ^শুর বকুলের বাড়ীর পশ্চিম পাশে অবস্থিত দুই বিঘা জমির প্রায় তিনশ কলাগাছ এবং বাড়ী সংলগ্ন আরো বেশকিছু ফলদ গাছ কেটে ফেলে। এ ঘটনায় মনোহরদী থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এ ঘটনায় বক্তব্য নেওয়ার জন্য মাহমুদুল হকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।


মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আবুল কালাম বলেন, ‘ঘটনা সম্পর্কে ক্ষতিগ্রস্ত বকুল মিয়া আমাকে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার জন্য তাকে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’