রহুল আমিন হত্যার জেরে পাল্টা হামলায় মৃত্যু শয্যায় এক কিশোর

১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৭:৩২ পিএম | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৭:১২ এএম


রহুল আমিন হত্যার জেরে পাল্টা হামলায় মৃত্যু শয্যায় এক কিশোর
আহত প্রবাল

তৌহিদুর রহমান:
নরসিংদীতে বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডিস ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ দাবী করাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হাতে রহুল আমিন (২২) নামে এক রং ব্যবসায়ী নিহতের ঘটনার জেরে পাল্টা হামলায় প্রবাল নামে এক কিশোর গুরুতর আহত হয়েছে।
আহত প্রবালকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার শেষে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিসিইউ) রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।


নিহত রুহুল আমিন এর ছোট ভাই আল আমিন এর নেতৃত্বে ওইদিনই হত্যায় অভিযুক্ত ব্রাহ্মন্দী মহল্লার ছোটনের বাড়িতে পাল্টা এই হামলা চালানো হয়। এসময় ছোটনের খালাতো ভাই কিশোর প্রবালকে আঘাত করা হলে সে গুরুতর আহত হয়।
এদিকে রহুল আমিন হত্যার ঘটনায় তার বড় ভাই শরীফুল ইসলাম বাদী হয়ে ৭ জনকে আসামী করে সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

আহত কিশোর প্রবালের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, রহুল আমিন হত্যার পর একদল হামলাকারী ব্রাহ্মন্দী মহল্লাস্থ ছোটনের বাড়ি ঘরে ভাংচুর চালিয়ে ব্যাপক তান্ডব সৃষ্টি করে। এসময় ছোটনের খালাত ভাই স্কুলছাত্র প্রবাল হট্রগোল দেখে এগিয়ে গেলে তার মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়। সাথে সাথে প্রবাল অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। হামলকারীরা চলে যাওয়ার পর আশেপাশের লোকজন কিশোর প্রবালকে উদ্ধার করে নরসিংদীর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। মাথায় গুরুতর আঘাত প্রাপ্ত হওয়ায় জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।


প্রবালের পিতা অবসরপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা হাফিজ উদ্দিন জানান, নিহত রুহুলের ভাই আলামিন হাতুড়ি দিয়ে প্রবালের মাথায় জোরে আঘাত করার ফলে তার মাথার খুলি ফেটে মস্তিষ্কে আঘাত লেগেছে। এছাড়া দীর্ঘক্ষণ রক্তক্ষরণ হওয়ায় এখন সে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপাচার শেষে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিসিইউ)তে রাখা হয়েছে। তার অবস্থা এখনো আশংকামুক্ত নয় বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
প্রবালকে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় নরসিংদী সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হবে বলেও জানান তার পিতা হাফিজ উদ্দিন।

এদিকে রুহুল আমিন হত্যার ঘটনায় তার বড় ভাই শরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে নরসিংদী সদর মডেল থানায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামীরা হলেন- বৌয়াকুড় মহল্লার বাসিন্দা ও ডিস ব্যবসায়ী  সারোয়ার হোসেন (৫৫), তার দুই ছেলে তানভীর (২৮) ও তানজীল (২৪), এবং পশ্চিম ব্রাহ্মন্দী মহল্লার আকবরের ছেলে ছোটন (৩৪), দাসপাড়া এলাকার মনির (২৮), বৌয়াকুড় মহল্লার নয়ন (২৩) ও পশ্চিম ব্রাহ্মন্দী মহল্লার হৃদয় (২৩)।

নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দুজ্জামান বলেন, রহুল আমিন হত্যার ঘটনায় ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। এরমধ্যে সারোয়ার হোসেন নামে একজন আসামী গ্রেপ্তার হয়েছে। আর পাল্টা হামলায় আহতের ঘটনায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনী পদক্ষেপ নেয়া হবে।