নরসিংদীতে ৫ মাস ধরে নিখোঁজ পরিবহন ব্যবসায়ী, অপহরণ করে গুমের অভিযোগ

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:৫৮ পিএম | আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১০:১৫ পিএম


নরসিংদীতে ৫ মাস ধরে নিখোঁজ পরিবহন ব্যবসায়ী, অপহরণ করে গুমের অভিযোগ
নিখোঁজ শাহ-আলম সিকদার

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নরসিংদীতে ব্যবসায়িক লেনদেনের বিরোধের জের ধরে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার পর ৫ মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন শাহ আলম সিকদার (২৯) নামের এক পরিবহন ব্যবসায়ী। শারিরীকভাবে প্রতিবন্ধী নিখোঁজ শাহ-আলম সিকদার নারায়নগঞ্জের রুপগঞ্জ উপজেলার বরপা গ্রামের আবু সাঈদ সিকদারের এর ছেলে। সে নরসিংদী সদর উপজেলার শীলমান্দি এলাকায় স্ত্রী সহ শ্বশুর বাড়িতে বসবাস করতো।


নিখোঁজের ঘটনায় শাহ আলমের মা জাবেদা বেগম প্রথমে নরসিংদী সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরী ও পরে অপহরণ করে গুম করার অভিযোগ এনে ৬ জনকে আসামী করে আদালতে অভিযোগ করেছেন। বিজ্ঞ আদালত সদর মডেল থানাকে অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার নির্দেশ প্রদান করেন।


মামলার আসামীরা হলো- নরসিংদী শহরের তরোয়া এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে মামুন (৪০), মৃত আবুল হোসেনের ছেলে খাজা (৩৫), আবুকালাম এর ছেলে আল-আমীন কাজী (৩০),সদর উপজেলার শীলমান্দী এলাকার ইদ্রিস আলীর ছেলে আব্দুল মালেক (৪৮), রওশন আলীর ছেলে ফালাইন্না (১৬) ও রায়পুরা উপজেলার মরজাল এলাকার জজ মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর (৩০)।এ ঘটনায় পুলিশ মামলার এজহারভুক্ত ফালাইন্না নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।


নিখোঁজ শাহ আলমের মা জাবেদা বেগমের অভিযোগ, মামলার বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার শীলমান্দিতে শশুর বাড়িতে বসবাস করে পণ্য পরিবহনের কাজে দুটি পিক-আপ ভ্যান (মিনিট্রাক) ভাড়া দিয়ে সংসার চালাতো শারিরীক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি শাহআলম। পরিবহন ব্যবসার সূত্রধরে মামুন, খাজা, আল-আমীনকাজী, আব্দুল মালেক, ফালাইন্না ও জাহাঙ্গীর এর সাথে পরিচয় হয় শাহ আলমের।
পরে ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে তাদের সাথে বিরোধ সৃষ্টি হয় প্রতিবন্ধী শাহ-আলমের। এই বিরোধের জেরধরে গত ৫ মে সন্ধ্যায় শাহ আলমকে তার শশুরবাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় আব্দুল মালেক। এসময় আগে থেকেই সিএনজি চালিত অটো রিকশা নিয়ে অপেক্ষা করছিল সহযোগী মামুন। তারা প্রতিবন্ধী শাহ-আলমকে সিএনজিতে উঠিয়ে নিয়ে যায় এবং অন্যান্য সহযোগীরা অপর একটি সিএনজি করে পিছু নেয়। শাহ-আলমকে উঠিয়ে নেয়ার পর আর বাড়ীতে ফিরে আসেনিব্যবসায়ীশাহআলম।বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করেও ছেলের সন্ধান করতে পারেননি তার বৃদ্ধা মা।


নিখোঁজের ঘটনায় শাহ-আলমের মা জাবেদা বেগম ১৪ মে সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ছেলের কোন সন্ধান না পেয়ে এবং থানায় মামলা গ্রহণ না করায় গত ১০ আগস্ট নরসিংদীর অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্র্যাট আদালতে ৬ জনকে আসামী করে অপহরণ করে গুম করার অভিযোগ করেন। বিজ্ঞ আদালত নরসিংদী সদর মডেল থানাকে মামলাটি নথিভুক্ত করার নির্দেশ প্রদান করেন। পরে আদালতের নির্দেশক্রমে ১ সেপ্টেম্বর সদর মডেল থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করে পুলিশ। নিখোঁজের ৫ মাস পেরিয়ে গেলেও ছেলের সন্ধান না পেয়ে পাগল প্রায় তার বৃদ্ধা মা ও স্ত্রী সহ পরিবারের সদস্যরা। ছেলে কে ফিরে পেতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ কামনা করেন তারা।


শাহ-আলমের মা জাবেদা বেগমের অভিযোগ, আমার ছেলে অপহরণে জড়িতরা পুলিশ ও ডিবির (জেলা গোয়েন্দা শাখা) সোর্স হওয়ায় নরসিংদী সদর মডেল থানায় মামলা নেয়নি। দীর্ঘ ৪টি মাস পেরিয়ে গেলেও ছেলের কোন সন্ধান পাইনি। পরে বাধ্য হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে ছেলেকে অপহরণ করে গুমের অভিযোগ করি আদালতে। আমার একমাত্র ছেলেটাকে তারা অপহরণ করে গুম করে ফেলেছে।আমি আমার ছেলেকে ফেরত চাই।


মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবি মোঃ নুরুল হক তালুকদার বলেন, আমরা আদালতে অপহরণ করে হত্যা ও গুম মামলার আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত অপহরণ করে গুমের মামলাটি আমলে নিয়ে সদর মডেল থানা কে মামলাটি নথিভুক্ত করার নির্দেশ প্রদান করেন। এজাহারভুক্ত আসামীদের কে গ্রেফতার করলেই নিখোঁজ প্রতিবন্ধি শাহ-আলমের হদিস পাওয়া যাবে।


মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মোঃ সেতাব আলী খান বলেন, মামলাটি ১ সেপ্টেম্বর থানায় রেকর্ড করা হয়েছে এবং তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ভিক্টিম উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত কোন কিছু বলা যাচ্ছে না। নিখোঁজ শাহ-আলমের পিকআপ চালক ফালাইন্না কে গ্রেফতার করা হয়েছে, সে কিশোর হওয়ায় তাকে গাজীপুর কিশোর অপরাধ সংশোধনী কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।পলাতক বাকী আসামীদের গ্রেফতার করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।


নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার দত্ত চৌধুরী বলেন, মামলাটি নেওয়া হয়নি বাদীর এই অভিযোগটি মিথ্যা। আমরা শাহ-আলমের নিখোঁজ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি করেছি, পরে আদালতের নির্দেশে অপহরণ করে গুম করার অভিযোগের মামলাটি নথিভুক্ত করেছি।



এই বিভাগের আরও