সৌদিতে কর্মসংস্থান হুমকিতে ১ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক

২৫ জুন ২০২০, ০৪:০১ পিএম | আপডেট: ১১ জুলাই ২০২০, ০৩:৩৮ পিএম


সৌদিতে কর্মসংস্থান হুমকিতে ১ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক
ফাইল ছবি

 

টাইমস ডেস্ক:

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারির কারণে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবে গত তিন মাসে অন্তত ১ লাখের বেশি মানুষের যাওয়া আটকে গেছে। তাঁদের অর্ধেকের বেশি ছুটি কাটাতে দেশে এসে ফিরতে পারেননি।

অন্যদিকে মহামারি পরিস্থিতি ঠিক হওয়ার আগ পর্যন্ত সৌদি আরব নতুন করে আর বিদেশি শ্রমিক নেবে না বলে দেশটির গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। দেশটির পাসপোর্ট বিভাগ জানিয়েছে, সৌদির বাইরে ছুটিতে থাকা বিদেশি নাগরিকরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দেশটিতে ফিরতে পারবেন না। যদিও কর্মকর্তারা বলছেন, সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো ঘোষণা বা সিদ্ধান্ত বাংলাদেশকে জানানো হয়নি।

তবে যাঁদের বৈধ পাসপোর্ট এবং আকামা বা কাজের অনুমতিপত্র আছে, তাঁরা যাতে চাকরি না হারান সে জন্য সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস দেশটির সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

জুলেখা আর পারুলের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত: বগুড়ার জুলেখা বেগম গত ৮ বছর ধরে সৌদি আরবে গৃহকর্মীর কাজ করেছেন। এরপর একটি কম্পানিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর চাকরি পান, আর সেখানে যোগদানের আগে হাতে দেড় মাস সময় ছিল, যে কারণে দেশে পরিবারের কাছে এসেছিলেন ফেব্রুয়ারিতে। মার্চের ২৭ তারিখে তাঁর ফিরে যাওয়ার ফ্লাইট ছিল। কিন্তু সাধারণ ছুটি আর বিমানযাত্রা বাতিলের কারণে আটকে যায় তাঁর ফেরা।

তিনি বলেন, গত তিন মাস ধরে বসে আছি, কবে যাইতে পারব জানি না। তখন গেলে যে কম্পানিতে এখন জয়েন করার কথা ছিল, তারা তখন আর আমাকে নেবে কি না তার তো কোনো নিশ্চয়তা নাই। আর তারা না নিলে তখন আমার আকামা বাতিল হয়ে যাবে, নাকি অন্য কোনো ব্যবস্থা হবে, বুঝতেছি না। আমার এজেন্সি বলছিল জুন মাসের শেষে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে, কিন্তু এখনো তো কোনো কিছু জানায় নাই তারা।

নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ার পারুল আক্তার প্রথমবারের মতো সৌদি আরবে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে যাচ্ছিলেন। আকামা বা কাজের অনুমতিপত্র এবং বৈধ কাগজপত্রসহ সব কিছু নিয়ে তিনি তৈরি, আত্মীয়-স্বজনের কাছে বিদায়ও চেয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে ২৩ মার্চ থেকে যাত্রীবাহী সব বিমান সংস্থার ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে দেয় সরকার। সময়সীমা কয়েক দফায় বাড়িয়ে ৩০ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

কত মানুষ আটকে পড়েছেন?
বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের হিসাব অনুযায়ী এ বছর ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে মার্চে ফ্লাইট চলাচল বন্ধের আগ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে দুই লাখের বেশি অভিবাসী শ্রমিক ফেরত এসেছেন।

ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান বলেছেন, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে মার্চে ফ্লাইট চলাচল বন্ধের আগ পর্যন্ত সৌদি আরব থেকে ৪১ হাজারের মতো শ্রমিক ফিরে এসেছেন। পরে চার্টার্ড বিমানে করে দেশে ফিরেছেন ১৩ হাজারের বেশি শ্রমিক, তারও একটি বড় অংশ সৌদি আরব থেকে এসেছে। এর বাইরে তিন মাসে সৌদি আরবে যাওয়ার কথা ছিল এমন শ্রমিকের সংখ্যাও ৫০ হাজারের বেশি।

সরকার কী বলছে?
সম্প্রতি সৌদি গেজেটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মহামারির কারণে এ বছর সৌদি শ্রমবাজারে ১২ লাখ বিদেশি কর্মী চাকরি হারাবেন। রিপোর্টে দেশটির এক গবেষণা সংস্থার বরাত দিয়ে বলা হয়, নির্মাণ খাত, পর্যটন (হজ), রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন খাতে এই কর্মচ্যুতি ঘটতে পারে।

এদিকে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে কর্মী নিয়োগ বন্ধ বা ছাঁটাইয়ের মতো কোনো ঘোষণা বা সিদ্ধান্ত বাংলাদেশকে জানানো হয়নি। বিদেশে বাংলাদেশি মিশনগুলোর দায়িত্বে আছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকার এরই মধ্যে রিয়াদ এবং জেদ্দায় আলাদা করে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে যাতে বাংলাদেশি কর্মীরা বিপদে না পড়েন। (সূত্র : বিবিসি বাংলা)


বিভাগ : বিশ্ব