বারৈচায় সোনালী ব্যাংকে বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীদের হয়রানীর অভিযোগ

২৯ জুন ২০২০, ০৫:১২ পিএম | আপডেট: ১১ জুলাই ২০২০, ০৫:৫৭ পিএম


বারৈচায় সোনালী ব্যাংকে বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীদের হয়রানীর অভিযোগ

বেলাব প্রতিনিধি:
নরসিংদীর বেলাব উপজেলার বারৈচা বাজারে অবস্থিত সোনালী ব্যাংকের বাখরনগর শাখায় অতিরিক্ত টাকা না দিলে বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতা মিলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংকের দারোয়ান ইকরাম ও হাবিব নামে এক নামের স্টাফকে এই অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে।


ভাতাভোগীদের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে উক্ত ব্যাংকে গেলে দেখা যায়, ব্যাংকের সামনের গেইট বন্ধ করে পিছনের গেইট দিয়ে গাদাগাধি করে ব্যাংকের ভিতরে ঢুকানো হচ্ছে ভাতাভোগীদের। করোনাকালীন ভাতা নিতে আসা এসব ভাতাভোগীদের অনেকেরই মুখে নেই কোন মাস্ক। এমনকি মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব।

ভাতাভোগীরা জানান, ব্যাংকের ভিতরে দুই তিন ঘন্টা দাড়িয়ে থাকার পর এক একজন করে ঢুকানো হয়। এসময় ব্যাংকের দারোয়ান ইকরামের কাছে বই জমা নেয়া হয়। বই জমা নেওয়ার সময় তাকে প্রতি ভাতাভোগীদের একশ টাকা করে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়। যার বিনিময়ে কোন রশিদ দেয়া হয় না। যারা একশ টাকা করে প্রদান করেন, তারা ভাতা পায়। যারা দিতে পারেন না, তাদেরকে নানাভাবে হয়রানি হতে হয়।

রায়পুরার বড়চর গ্রামের স্কুল শিক্ষক শ্রীকান্ত বিশ্বাস প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী মেয়ের পিতা। তিনি জানান, আমিসহ বাহাদুরপুর গ্রামের প্রতিবন্ধী রতন, বাখরনগর গ্রামের কৃষ্ণচন্দ্র ও ছায়ারাণীর বই জমা দিয়েছি দারোয়ানের কাছে। সকলের বই বাবদ একশ টাকা করে নিয়ে ভাতা প্রদান করেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সেবার নামে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এসকল অনিয়ম ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দেখেও না দেখার ভান করে। যার ফলে ব্যাংকের নিম্নশ্রেণির কর্মচারীরা নির্ভয়ে এ অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরে। অভিযোগ রয়েছে একাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে সকল সেবা পেতে হলে এ ব্যাংকে আগে বাড়তি উৎকোচ দিতে হয়। এসকল টাকা নেওয়া হয় ব্যাংকের দারোয়ান ইকরাম ও হাবিবের মাধ্যমে।

বেলাব উপজেলার উজিলাব ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রফেসর আক্তারুজ্জামান বলেন, অসহায় ও দরিদ্র মানুষদের বয়স্ক ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদান করছে সরকার। তাদের কাছ থেকে ভাতা উত্তোলনের সময় একশ টাকা করে নেয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। গতকালকে আমার কাছেও এরকম কয়েকজন ভাতাভোগী অভিযোগ করেছেন। আমি মনে করি সুষ্ঠু তদন্ত করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত হাবিব বলেন, আমরা ভাতার বিনিময়ে একশ টাকা করে নিচ্ছি এই অভিযোগ মিথ্যা। আমরা কোন টাকা পয়সা কারো কাছ থেকে নিচ্ছি না।

এ ব্যাপারে ব্যাংকের ম্যানেজার মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি বিষয়ে কিছুই জানি না। তবে বিষয়টি আমি জেনে সত্যতা পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে সঠিক ব্যবস্থা নিবো।