মাধবদীতে স্বর্ণের চেইনের লোভে নামাজরত বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যা: ৩ আসামি গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তি

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৯ পিএম | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৭ এএম


মাধবদীতে স্বর্ণের চেইনের লোভে নামাজরত বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যা: ৩ আসামি গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নরসিংদীর মাধবদীতে নিজ বসত ঘরে নামাজরত অবস্থায় প্রবীণ নারী জাহানারা বেগমকে (৭৩) কুপিয়ে হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে নরসিংদী জেলা পুলিশ। গলার একটি স্বর্ণের চেইনের লোভে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে এক আসামী। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো: আশিকুর রহমান।

গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন-স্বর্পনিগৈড় গ্রামের মৃত হারুন মিয়ার ছেলে প্রধান আসামি হৃদয় মিয়া (২৭), ছায়েদ মিয়ার ছেলে কাদির মিয়া (২৭) ও আকমান মিয়ার ছেলে আবু মিয়া (২৯)।


এর মধ্যে প্রধান আসামির বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে একটি মাদক মামলা ও কাদিরের বিরুদ্ধে মারামারি ও মারাত্মক অস্ত্র দ্বারা জখমের মামলা রয়েছে। আবু মিয়া হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।


অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, গত ৩০ জুলাই সন্ধ্যায় মাধবদী থানাধীন মেহেরপাড়া ইউনিয়নের স্বর্পনিগৈড় গ্রামে নিজ বসতঘরের বারান্দায় নামাজরত অবস্থায় বৃদ্ধা জাহানারা বেগমকে মাথায় বাট (ভারী বস্তু) দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর নিহতের ছেলে মোহাম্মদ ইসমাইল মিয়া বাদী হয়ে মাধবদী থানায় করেন। এ ঘটনার রহস্য উন্মোচন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে তৎপর হয় পুলিশ।


পরে থানা ও ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে গত ৯ ও ৩০ আগস্ট দুইজনকে এবং ১৬ সেপ্টেম্বর অভিযান চালিয়ে অপর আসামি আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।

আসামি আবু মিয়ার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ঘটনার প্রায় ৭-৮ মাস আগে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় বসে আসামিরা বৃদ্ধার স্বর্ণের চেইন চুরির পরিকল্পনা করে। ঘটনার দিন ড্রিম হলিডে পার্কের পেছনে বৈঠক করে তারা চূড়ান্ত নীল নকশা সাজায়। ঘটনার সময় এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকার সুযোগে আসামিরা বৃদ্ধার ঘরে প্রবেশ করে। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে এলে বৃদ্ধা তাদের চিনে ফেলেন। পরিচয় গোপন রাখতে আসামিরা তাকে চেপে ধরে বারান্দায় থাকা বাট দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা নিশ্চিত করে এবং গলার চেইনটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

বর্তমানে ঘটনায় জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত সোনার চেইনটি উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।



এই বিভাগের আরও