মাধবদীতে নানীকে হাতুড়ির আঘাতে খুন করে পুলিশে ফোন করলো নাতী

১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০২:০৮ পিএম | আপডেট: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:৩২ পিএম


মাধবদীতে নানীকে হাতুড়ির আঘাতে খুন করে পুলিশে ফোন করলো নাতী

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
নরসিংদীর মাধবদীতে ভাত দিতে দেরি হওয়ায় নাতী কর্তৃক ফুলমালা বেগম (৬০) নামে এক নানীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। হত্যার পর পলাশ মিয়া (১৭) নামের ওই নাতী নিজেই খুনের কথা স্বীকার পুলিশে ফোন করে গ্রেপ্তার হয়েছে।

নিহত ফুলমালা কুড়েরপাড় গ্রামের মৃত সুন্দর আলীর স্ত্রী। অভিযুক্ত পলাশ পার্শ্ববর্তী স্বর্পনিগৈর এলাকার ইসমাইল হোসেনের ছেলে।
বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে মাধবদী থানার কুড়েরপাড় গ্রামে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের দেওয়ান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


স্থানীয় ইউপি সদস্য সেলিম মিয়া ও পুলিশের সাথে কথা বলে জানা গেছে, স্বামী সুন্দর আলীর মৃত্যুর পর বৃদ্ধা ফুলমালা বেগম (৬০) তার মেয়ের ঘরের নাতী পলাশ মিয়াকে নিজের কাছে নিয়ে এসে বিদ্যালয়ে ভর্তি করান। নানীর কাছে থেকেই মাধ্যমিক পাস করে বর্তমানে একটি কলেজে পড়শোনা করছে পলাশ মিয়া (১৭)।
গতকাল বৃহস্পতিবার বেশী রাত করে বাড়ি ফেরায় নানী পলাশ কে বকাঝকা করেন। এসময় রাতের খাবার দিতে একটু দেরি হওয়ায় পলাশ তাঁর নানীর পিঠে ঘুষি দেয়। এতে নানী ক্ষিপ্ত হয়ে পলাশকে লাথি মারেন। তারপর পলাশ হাতুড়ি নিয়ে নানী ফুলমালাকে মাথায় ও মুখে এলোপাথারি পিটিয়ে আহত করলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যু নিশ্চিত জেনে রাতেই হত্যার প্রায়শ্চিত করার জন্য নাতী পলাশ ফোন করে পুলিশকে ঘটনা জানায়। খবর পেয়ে রাতেই মাধবদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। এসময় অভিযুক্ত নাতী পলাশকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় পুলিশ।


মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের দেওয়ান বলেন, মূলত ভাত দিতে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে নানী ও নাতীর মধ্যে ঝগড়া হয়। প্রথমে পলাশ তাঁর নানীকে আঘাত করে। পরে নানী ফুলমালা রাগের মাথায় যে লাথিটি দিয়েছিলেন তা পলাশের অন্ডকোষে লাগে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পলাশ হাতুড়ি দিয়ে ফুলমালাকে এলাপাথারি পিটিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।