রায়পুরায় টেঁটাযুদ্ধে শিশুসহ ৬ জন টেঁটাবিদ্ধ

২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:৫৬ পিএম | আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২০, ০৭:৩৯ এএম


রায়পুরায় টেঁটাযুদ্ধে শিশুসহ ৬ জন টেঁটাবিদ্ধ
পুরনো ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত দুই পক্ষের টেঁটাযুদ্ধে ৬ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার চরসুবুদ্ধি ইউনিয়নের আবদুল্লাপুর গ্রামে এই টেঁটাযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের শতাধিক কর্মী সমর্থক অংশ নিলেও বিকেল ৫টা পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

এই ঘটনায় টেঁটাবিদ্ধ ৬ জনের মধ্যে পাঁচজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন, উপজেলার চরসুবুদ্ধি ইউনিয়নের আবদুল্লাপুর গ্রামের মো. শাহাদৎ (১৮), মো. জাকির মিয়া (৪০), জীবন মিয়া (২০), জুনায়েদ (৯) ও নীলু মিয়া (৪৫)। টেঁটাবিদ্ধদের প্রথমে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রথম চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এর আগে গত ১৩ মে দুই পক্ষের সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে ওই এলাকার মৃত লাল মিয়ার ছেলে মো. নুরুল হক (৪৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। টেঁটাযুদ্ধের সময় এলাকায় ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের খবর পেয়ে তা দেখার জন্য ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন তিনি।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আবদুল্লাপুর গ্রামের ফরহাদ হোসেন ওরফে স্বপন ও মো. কাঞ্চন মিয়ার দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলছে। কিছুদিন পরপরই দুই পক্ষ পরষ্পর টেঁটা, বল্লম, দা, ছুরি নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। গত দুদিন ধরেই এই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এই দুদিনে বেশ কয়েক দফা ককটেল বিষ্ফোরণ করা হয়। আজ সোমবার সকাল ১১টার দিকে হঠাৎ করেই দুই পক্ষের লোকজন টেঁটা, বল্লম, দা, ছুরি নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় দুই পক্ষের ছোড়া টেঁটায় ৬ জন ব্যক্তি টেঁটাবিদ্ধ হন। পরে আশেপাশের লোকজন তাদেরকে উদ্ধার করে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

স্থানীয়রা আরও জানান, দুই পক্ষের লোকজনই গতকাল রবিবার স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের কথা দিয়েছিল সংঘর্ষের কোন ঘটনা ঘটবে না। কিন্তু কথা দিলেও দুই পক্ষই ভেতরে ভেতরে উত্তেজিত অবস্থায় ছিল। আজ বেলা ১১টার দিকে তুচ্ছ ঘটনায় দুই পক্ষই পরষ্পর সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দুই ঘণ্টার এই টেঁটাযুদ্ধের ঘটনায় ফরহাদ হোসেন গ্রুপের পাঁচজন ও কাঞ্চন গ্রুপের একজন আহত হন।

সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে ফরহাদ হোসেন ও কাঞ্চন মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় ১০ মাস আগে ফরহাদ হোসেন গ্রুপের সমর্থকরা কাঞ্চন মিয়ার ওপর হামলার ঘটনা ঘটায়। সে সময় কাঞ্চনের মাথায় কোপ দেওয়াসহ ব্যাপক মারধর করা হয়। বেশ কিছুদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর সুস্থ হয়ে ফেরেন তিনি। এর প্রতিশোধ নিতে গত এপ্রিলের শেষ দিকে কাঞ্চনের লোকজন ফরহাদ হোসেনের কর্মী সমর্থকদের বাড়িঘরে ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগসহ টেঁটাযুদ্ধে লিপ্ত হয়। পরবর্তীতে গত ১৩ মে সকালে দুইটি পক্ষ টেঁটা ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পরষ্পর সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এর ধারাবাহিকতায় আজ সোমবার আবার তারা টেঁটাযুদ্ধে লিপ্ত হন।

চরসুবুদ্ধি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন জানান, ফরহাদ হোসেন স্বপন ও মো. কাঞ্চন মিয়া দুজনেরই দলীয় কোন পদ না থাকলেও তারা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন। এরই মধ্যে বেশ কয়েকবার তাদের মধ্যে সংঘর্ষ ও টেঁটাযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া বিভিন্ন সময় দুই পক্ষের বাড়িঘরে ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। আমরা বেশ কয়েকবারই দুই পক্ষকে নিয়ে বসে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছি কিন্তু তারা এতে কোন পক্ষেরই আগ্রহ দেখতে পাইনি।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিনুল কাদির জানান, খবর পেয়ে রায়পুরা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই ঘটনায় ফরহাদ হোসেন স্বপন গ্রুপের পাঁচজন ও মো. কাঞ্চন মিয়া গ্রুপের একজন টেঁটাবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।